ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৬ জুন ২০২৪
  • অন্যান্য

সুপার ওভারে পাকিস্তানকে হারাল যুক্তরাষ্ট্র

ডেইলি নিউজ পোর্টাল টোয়েন্টিফোর
জুন ৬, ২০২৪ ৭:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যাদের ক্রিকেট খেলা দেখে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই, বাংলাদেশকে সিরিজ হারানোয় যারা ভেবেছিলেন পুরোটাই বাংলাদেশের দুর্বলতা, সেই যুক্তরাষ্ট্র এবার বিশ্বকাপে হারিয়ে দিল পাকিস্তানকে। সেই সাথে ভারত-পাকিস্তানের গ্রুপ থেকে সুপার এইটে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেল অনেকটাই। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে প্রথম ম্যাচের পরপরই বাদ পড়ার শঙ্কা পাকিস্তানের।

এই ম্যাচ দেখতে নেমে খানিকের জন্য হলেও হয়ত সবার পাকিস্তানকে মনে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাষ্ট্রকে মনে হয়েছে পাকিস্তান। কানাডার রানের পাহাড় যে মাঠে হেসেখেলে টপকে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, সেখানেই যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ব্যাটিং বিপর্যয় পাকিস্তানের। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ১০ ওভারে স্কোরবোর্ডে এলো মাত্র ৬৬ রান। তার উপর নেই ৩ উইকেট। তাও শাদাব খানের ঝড় শুরু হওয়ার আগের রেকর্ড ঘাটতে গেলে মনে হবে, পাকিস্তান আর যুক্তরাষ্ট্র বুঝি জায়গা অদলবদল করে রেখেছে! স্ট্রাইক রেট নিয়ে অনেক কথা শুনতে হচ্ছিল বাবর আজমকে। সেই বাবর এবার স্বেচ্ছায় হলেন খোলসবন্দী।

আসলে খোলসবন্দী না হয়েও উপায় ছিল না। ছক্কায় রানের খাতা খোলা মোহাম্মদ রিজওয়ান ৮ বলে ৯ রান, উসমান খান ৩ বলে ৩ রান আর রিজওয়ানের মতো ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করা ফখ্র জামান ৭ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফেরার পর পাকিস্তানের জন্য রান তোলার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল উইকেট পতন ঠেকানো। আর তা করতে গিয়েই বিপাকে পড়ে যায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

সমালোচনার গণ্ডিতে বন্দী শাদাব খান ২৫ বলে ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংসে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনটি ছক্কা হাঁকানো শাদাব বিদায় নিলে আবারও সেই দুর্দশা। চাপের মুখে ৪৪ রানের ইনিংস খেলতে বাবর খেলেন ৪৩ বল, হাঁকান তিনটি চার ও দুটি ছক্কা। শেষদিকে শাহীন আফ্রিদির ১৬ বলে ২৩ রানের ক্যামিওতে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান জড়ো করে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের ইনিংসজুড়ে ডট বল ছিল ৪৭টি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নসথুশ কেনজিগে তিনটি উইকেট শিকার করেন। মাত্র ১৮ রান খরচ করে দুটি উইকেট পান সৌরভ নেত্রভালকার।

বাবরের ধীর ব্যাটিং নিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হতেই শুরু হয় সমালোচনা। সেই সমালোচনা আরও জোরালো হয় যুক্তরাষ্ট্রের মারকুটে ব্যাটিং দেখে। যুক্তরাষ্ট্রের মোনাঙ্ক প্যাটেল ৩৮ বলে ৫০ রান করে দেখিয়ে দেন জয়ের পথ। অ্যান্দ্রিজ গুজ ২৬ বলে ৩৫ রান করে বিদায় নিলে হাল ধরেন অ্যারন জোন্স। তবে মোহাম্মদ আমিরের এক ওভারে ম্যাচ মোড় নেয়। ১৯তম ওভারে মাত্র ৬ রান খরচ করেন তিনি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। শেষ ৩ বলে ১১ রান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ঠিক ১৫৯ রানই জড়ো করলে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

অ্যারন জোন্সের কৃতিত্ব আর পাকিস্তানের মিসফিল্ডিংয়ে ভর করে আমিরের করা সুপার ওভারে ১৮ রান জড়ো করে যুক্তরাষ্ট্র। এই রান নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচ জিতে নেয়, বৃথা যায় পাকিস্তানের চেষ্টা।